Friday, May 29, 2020

শিষ্য হওয়া খুব সোজা নয়

শিষ্য হওয়া খুব সোজা নয় ,শুধু দীক্ষা নিলেই আর নীতি কথা অক্ষরে অক্ষরে মেনে চললেই প্রকৃত শিষ্য হওয়া যায় না,শিষ্য হতে গেলে আগে গুরু কে চিনতে হবে,তার জানতে হবে গুরুদেব আসলে কি চান কিংবা তার কি বাসনা , যে বা যারা এই ব্যাপার টা বুঝতে পারেনা তারা মূর্খ শিষ্য রূপে পরিগণিত হয় এবং ভগবত বুদ্ধি লাভ করতে অসমর্থ হয়।
এই নিয়ে একটি সুন্দর কাহিনী তুলে ধরছি আপনাদের কাছে,
একবার এক গুরু ঘোড়ায় চড়ে যাচ্ছিলেন,সঙ্গে তার শিষ্য ছিল। চলতে চলতে একটা কাপড় পড়ে যায়, গুরু তার শিষ্য টিকে জিজ্ঞাসা করলেন,আমার কাপড়টা কোথায়?
শিষ্য টি বলল , পড়ে গেছে।

কেন তুমি কুড়িয়ে নাও নি? জানতে চান গুরু।
আপনি তো আমাকে ওটা তুলে নিতে বলেননি।আপনি যা বলবেন ,তাই তো করবো, জবাব দেয় শিষ্য টি।
এটাও কি তোমাকে বলে দিতে হবে,যে ঘোড়া থেকে একটা কাপড় পড়ে গেলে তুমি অবশ্যই তুলে দেবে?
গুরুদেব আপনি না বললে তো জানতে পারব না।কৃপা করে বলে দিন আমাকে কি কি কাজ করতে হবে।
বেশ ঠিক আছে, ঘোড়া থেকে যা কিছু পরে যাবে ,তুমি নিশ্চই তুলে নিয়ে আমাকে দেবে।
আবার তারা চলতে শুরু করলো,কিছুক্ষণ পর ঘোড়াটি বিষ্ঠা ত্যাগ করলো, শিষ্য টি তখনই তা তুলে নিয়ে গুরুদেব কে দিল,এই নিন গুরুদেব।
এ কি ! গুরুদেব চমকে উঠলেন।
ঘোড়ার বিষ্ঠা।
এ তো আমি চাইনি।
কিন্তু এটাই তো ঘোড়া থেকে পড়লো।আপনি যে আমাকে বললেন ,যা কিছু ঘোড়া থেকে পড়ে যাবে তা তুলে নিয়ে আপনাকে দিতে।তাই তো আপনাকে এটা দিচ্ছি।
আমি এই বিষ্ঠা চাইনি।
এতো ভারী গোলমাল হলো,গুরুদেব।একবার আপনি বলেন ঘোড়া থেকে যা কিছু পড়বে সব তুলে আমাকে দাও, আর তারপর বলছেন, ' বিষ্ঠা তুলো না।' এ কেমন হল? এ আমার কাছে ভারী দ্বন্দ লাগছে। দয়া করে আমাকে লিখে দিন না কি কি জিনিস আমাকে তুলে নিতে হবে। তাই গুরু একটা ফর্দ লিখে তাকে দিলেন। জামা ,চাদর, ধুতি,থলি ইত্যাদি, এই ফর্দে যা নেই, তা তুলো না , ' তিনি সাবধান করে দিলেন।
যেতে যেতে হটাৎ কতগুলো শেয়াল ছুটে এলে ঘোড়া টি ভয় পেয়ে লাফিয়ে উঠতেই গুরুদেব ঘোড়া থেকে পড়ে গিয়ে সঙ্গে সঙ্গে জ্ঞান হারালেন। শিষ্য টি তাড়াতাড়ি সেই ফর্দ টি খুলে তুলে নিতে লাগল জামা,চাদর,ধুতি,থলি ইত্যাদি আর সেই সব কিছু ঘোড়ার উপরে রেখে দিলেন।বেচারি গুরুদেব জ্ঞানহারা হয় মাটিতে পরেই থাকলেন।
অবশেষে চেতনা ফিরে এলে গুরুদেব একেবারে দিগম্বর অবস্থায় নিজেকে পড়ে থাকতে দেখলেন। ' কি হলো? আমাকে এখানে এমনি ভাবে ফেলে রেখেছ কেন? আমাকে তোলনি কেন?
ফর্দে তো আপনার নাম নেই,গুরুদেব। ফর্দে আপনি যা যা লিখে দিয়েছেন,প্রতিটি জিনিষ আমি ঘোড়ার পিঠে বোঝাই করে রেখেছি। এই হল এক ধরনের শিষ্য যে অক্ষরে অক্ষরে নীতি কথা মেনে চলে,কিন্তু গুরুর অভিলাষ বুঝে নিতে পারে না শুধু মাত্র অক্ষর ধরে বুঝতে গেলে ভক্তি পথে বেশিদূর অগ্রসর হওয়া যায় না।অন্তর্যামী পুরুষ ভাবগ্রাহী,হৃদয় দিয়ে মনে প্রাণে তা উপলব্ধি করতে হয়।
এজন্য শিষ্য হতে হবে জিজ্ঞাসুপর।সর্বাগ্রে নিজের যাবতীয় অহমিকা বিসর্জন দিয়ে গুরুদেবের চরণে আত্ম সমর্পন করতে হবে।

তদ্বিদ্বি প্রণিপাতেন পরিপ্রশ্নেন সেবয়া
উপদেক্ষন্তি তে জ্ঞানং জ্ঞানিনস্তত্ত্বদর্শিন:।।
🍂🍂🍂🍂🍂🍂🍂🍂🍂🍂🍂🍂🍂🍂
শ্রীগুরু জয়----- শ্রীগুরু জয় ------ শ্রীগুরু জয়।।
🙏

No comments:

Post a Comment

বৈষ্ণবদের গুন দর্শন

বৈষ্ণবদের একটা বড়ো গুন হলো,এরা অন্যের শুধু গুন দর্শন করে, কখনো দোষ দর্শন করে না, এরা অদোষ দোষী। শ্রীগুরু দেবের অসীম করুণার ফলে আজ আমরা শ্রী...