..............#অন্ত্যর্যামী_শ্রীশ্রীদূর্গাপ্রসন্ন..............
🌿🍂🌿🍂🌿🍂🌿🍂🌿🍂🌿🍂🌿🍂
১৯৫৪ সাল (১৩৬১ সালে সময়টা বোধহয় পৌষ মাসের ) একটি ছোট ঘটনার উল্লেখ করা সম্ভবত অপ্রাসঙ্গিক হবে না। টালিগঞ্জে ভাড়া বাড়িতে তখন কেন্দ্রীয় আশ্রম স্থাপিত ছিল। একদিন বিকেল বেলা আশ্রমে গিয়ে সন্ধ্যারতির পর ফিরে আসছি। পথে (গলির মধ্যেই ) একজন রাজস্থানি ব্যক্তির সঙ্গে দেখা --- ভদ্র লোক আমাদের আশ্রমের খোঁজ জানতে চাইলেন। উনি বল্লেন, তিনি আদৌ বাংলা জানেন না -- অর্থাৎ বাংলা ভাষা বুঝতে বা বলতে কোনোটাই পারেন না। ইংরেজি তে ঐ ভদ্রলোক এর সঙ্গে আলাপ করলাম -- মনে হলো তিনি ইংরেজি কিছু কিছু বোঝেন, তবে বলতে পারেন আরো সামান্য। হিন্দিই তার জানা। শ্রীশ্রীগুরুদেবের কাছে কি এক দরকারে এসেছেন। তার সঙ্গেই আবার আশ্রমে ফিরে এলাম, শ্রীশ্রীগুরুদেব তখনও ঠাকুর ঘরের সামনে তার আসনে বসাই আছেন -- কাছে দু চার জন মাত্র লোক। রাজস্থানি ভদ্র লোকের( উপাধি দপ্তরী ) বিষয় শ্রীশ্রীগুরুদেব কে জানালাম, আর মনে মনে ভাবলাম -- এবার দোভাষীর কাজটি বোধহয় আমাকেই করতে হবে। শ্রীশ্রীগুরুদেব লোকটি কে সুস্পষ্ট বাংলায় জিজ্ঞাসা করলেন -- কি, বাবা, তোমার কি কষ্ট বলো -- মনে কোনো দ্বিধা রেখো না। এর উত্তরে ঐ ভদ্র লোক ভাঙা ভাঙা বাংলায় ( উচ্চারণে কিছুটা হিন্দির টান ) তার বক্তব্য পেশ করলেন। শ্রীশ্রীগুরুদেব যথোচিত প্রতিকারের জন্য প্রয়োজনীয় নির্দেশ ও কবচ ইত্যাদি দিলেন। দোভাষীর কাজ করা আমার আর হলো না, ভাবলাম -- আচ্ছা লোকতো, আমাকে বল্লেন, বাংলা একেবারে জানেন না অথচ কথোপকথনে বাংলাতে তো কোনো অসুবিধাই হলো না। ভদ্র লোকের সঙ্গেই আশ্রম থেকে বেরিয়ে এলাম -- পথে বললাম আপনি বাংলা তো ভালোই জানেন।
ভদ্র লোক নির্ধিদ্বায় উত্তর দিলেন -- তিনি বাংলাতে কোনো কথা বলেন নি। শ্রীশ্রীগুরুদেবও তার সব প্রশ্নের উত্তর তো হিন্দিতেই দিয়েছেন। তার কথার মধ্যে কোনো কপোটতা আছে বলে মনে হলো না। অথচ নিজের কানকেও তো অবিশ্বাস করতে পারি না। এর রহস্য সত্যিই দুরধিগম্য।
লেখক
Sri S R Dutta
🙏🙏🙏

No comments:
Post a Comment