Sunday, May 31, 2020

বৈষ্ণবদের গুন দর্শন

বৈষ্ণবদের একটা বড়ো গুন হলো,এরা অন্যের শুধু গুন দর্শন করে, কখনো দোষ দর্শন করে না, এরা অদোষ দোষী।

শ্রীগুরু দেবের অসীম করুণার ফলে আজ আমরা শ্রীগুরু সঙ্ঘের অমৃত ধারায় যুক্ত হতে পেরেছি।খুঁজে পেয়েছি জীবনের গন্তব্যস্থল, পৌঁছাবার উপায় ও আমাদের জানা, শুধু মাত্র সদ ব্যবহার করতে হবে সেই উপায়ের পন্থা। আমরা যাতে ঐক্যবদ্ধ ভাবে এগিয়ে যেতে পারি , একত্র ভূত হবার মধ্যেই নিহিত রয়েছে শক্তি, তাই প্রাণের গুরুদেব সৃষ্টি করেছিলেন সঙ্ঘ রূপ শক্তি।
 আমাদের এই শরীর বিনাশী, আমাদের আত্মা অবিনাশী। যখন কোনো পরিহিত বস্তু সামগ্রী ব্যবহার এর অযোগ্য হয় ওঠে তখন আমরা সেই পোশাক পরিবর্তন করি। তেমনি আমাদের শরীর টা যখন জীর্ণ হয় তখন আত্মা সেই শরীর ত্যাগ করে নতুন শরীরে স্থান লাভ করে।

গীতায় বলা হয়
জ্ঞাতশ্যহি ধ্রুবং মৃত্যু
অর্থাৎ জন্ম হলে মরতেই হবে
কিন্তু আমাদের কোথাও কোনোদিন এই বিষয়ে বলা হতো না, স্কুলে, কলেজে কোথাও শেখানো হয় নি আত্মার সরূপ, নিজেদের আত্মা কে নিরন্তর খোঁজার প্রয়াসে খুঁজে পাওয়া সম্ভব ঈশ্বর কে ,তাই তো গীতায় বলেছেন শ্রীকৃষ্ণ
শিনন্ত বিশ্বে অমৃতস্য পূত্রা
আমরা অমৃতের পুত্র, আমাদের খুঁজে পেতে হবে জীবনের পথ, তাই শ্রীগুরু চরণে নিজেদের উৎসর্গ করে আত্মার বিশ্লেষন করার পন্থা অবলম্বনের মাধ্যমেই আমরা অমৃতের পুত্র হতে পারি।
কলি যুগে পাপ এর হাত থেকে পরিত্রাণ পাবার জন্য গুরুদেব আমাদের জন্য তৈরি করলেন সঙ্ঘ।সঙ্ঘ শক্তি কলিযুগে।
কলির আরেক নাম অধর্ম বন্ধু।কলহের মাধ্যমে বিভেদ সৃষ্টি করাই একমাত্র কাজ কলির। তার ফলে তৈরি হবে অধর্ম আর বিপরীতে এই কলির হাত থেকে রক্ষার জন্য ধরা ধামে আবির্ভূত হলেন শ্রী চৈতন্য মহাপ্রভু, গুরুদেব তার লীলা ধারক হয় প্রচার করলেন শ্রী নাম সংকীর্তন। ক্ষুদা আছে খাদ্য নাই -- এই বিশেষ কথাটির তাৎপর্য একমাত্র শ্রীগুরু সঙ্ঘের আশ্রয়কারি রাই হৃদয়ঙ্গম করতে পারবেন।
চৈতন্য চন্দ্রদয় থেকে জানা যায়
যখন ধরাধামে শ্রী চৈতন্য মহাপ্রভুর জন্ম হলো তখন কলি ভয়ে কাপতে লাগলো, তখন কলির পর্ষদ রা বলতে লাগলো হে কলিরাজ আপনি কেন ভয় পাচ্ছেন?
কলি বললো দেখো ওই ব্রাহ্মন বালক টি জন্ম নিয়েছে যার প্রভাবে আমার সমস্ত অধর্ম নষ্ট হয় যাবে।
তখন ক্রোধ এগিয়ে এসে বলল আমাদের প্রভাবে তো সমস্ত ব্রাহ্মন সমাজ টাই নষ্ট হয় গেছে, আমাদের প্রভাবেই তো ব্রাহ্মন রা কত অধর্ম পালন করেছে, সতীদাহ প্রথা, কৌলিন্য প্রথা, যজ্ঞ বিধির বেদের নাম করে তারা তো সব আজ অধর্ম পালন করতে ব্যস্ত।
তখন কলি বললো এই বালক সমস্ত টাই আলাদা, ওর নির্মল হৃদয়ে সবাইকে সঙ্ঘ বদ্ধ করে সঙ্ঘ শক্তির মাধ্যমেই আমাদের পরাস্ত করবে।
ক্রোধ এগিয়ে এসে বলল রাজন আমি এদের সঙ্ঘ শক্তিতে ক্রোধের সঞ্চার করে এদের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করবো তাতে এরা পরাস্ত হবেই।
কলি বলল:- এর সাথে যারা থাকবে তাদের হৃদয় এত কোমল হবে যেখানে ক্রোধের স্থান থাকবে না,থাকবে ক্ষমার গুন, আসবে সহন শিলতা,এদের কাছে তুমি নিজেও পরাস্ত হবে।
এবার লোভ এসে বললো হে কলিরাজ আমি এদের মধ্যে লোভের সঞ্চার করে এদের মধ্যে হিংসা সৃষ্টি করে এদের আলাদা করে দেবো, তখন কলীরাজ বলল এরা সংঘবদ্ধ হয়ে সংকীর্তন করবে এদের কাছে ভগবৎ কৃপার লোভ ব্যতীত কোনো কিছুর লোভ থাকবে না, তাই তোমার পন্থা এদের নির্লোভ হৃদয়ে স্থান পাবে না।তুমিও পরাস্ত হবে।
কাম উত্তেজিত হয়, বলে সমস্ত ছেলে মেয়ে রা যে রয়েছে ওদের মাঝে আমি কামের সঞ্চার করে ওদের কে অনৈতিকতার মাধ্যমে পাপের সঞ্চার করে এদের বিভেদ সৃষ্টি করবো, কিন্তু কলিরাজ বললেন এই বালকটির প্রভাবে হরি নাম যেখানে হবে সেখানে কামের কোনো প্রভাব তৈরি হবে না।
শ্রী চৈতন্য মহাপ্রভুর লীলার ধারক রূপে তেমনি আবির্ভূত হলেন শ্রী শ্রী দুর্গা প্রসন্ন পরম হংস দেব। আমাদের উদ্ধারের তাগিদে তৈরি করলেন শ্রীগুরু সঙ্ঘ, সংকীর্তনের সাথে যুক্ত হবার জন্য প্রস্তুত করলেন সঙ্ঘ রূপ এক বিশাল মহীরুহ। যাতে আবার প্রতিষ্ঠিত হয় ১০ হাজার বছরের সত্য যুগ। কলির কালিমা মুছে দিতেই তার কৃপা লাভের জন্য তিনি বিধান দিয়েছিলেন শ্রীগুরু সঙ্ঘ আমার প্রাণ। তাই আসুন সঙ্ঘ করি,সঙ্ঘ রূপ শ্রীগুরু ভগবানের কৃপায় যেন আমরা প্রকাশিত হতে পারি। পরের তরে সত্য সেবা নীতি ধর্মের আঙিনায় যেন আরো এগিয়ে যেতে পারি।তাই তো কবিতার ছন্দে বলাই যেতে পারে :-
ভারত ভূমিতে হইল মনুষ্য জন্ম যার
জন্ম সার্থক করি কর পর উপকার।।

শ্রীগুরু জয়

স্বয়ং_জ্যান্ত_শিব_শ্রীদূর্গাপ্রসন্ন

🍂🌿 #স্বয়ং_জ্যান্ত_শিব_শ্রীদূর্গাপ্রসন্ন🍂🌿
🍂🌿🍂🌿🍂#চলতা_শিব🍂🌿🍂🌿🍂🌿
..........................................................................
১৩৬০ সালের ভাদ্র মাসে কাশীধামে শ্রীশ্রীগুরুদেব এর একটি অপূর্ব লীলার কথা বিশেষ উল্লেখযোগ্য। ১৪ই ভাদ্র শ্রীকৃষ্ণের জন্মাষ্টমীর দিন -- সকালে কয়েকজন কে দীক্ষা দান করে, সন্ধ্যায় বাবা বিশ্বনাথের বাড়ির সংলগ্ন অন্য মন্দিরাদি দর্শন করে বাবার সন্ধ্যারতি দর্শনের উদ্দেশ্যে শ্রীশ্রীগুরুদেব সেখানে অপেক্ষা করতে থাকেন। শ্রীশ্রীগুরুদেব এর শরীর ও খুব একটা ভালো নয়। প্রচন্ড ভিড়ের মধ্যে তার পক্ষে আরতি দর্শনাদি করা প্রায় অসম্ভব। দীর্ঘকায় একজন পান্ডা কে দেখে তার মনে হলো -- বাবা বিশ্বনাথ ওনাকে যেন তার কাছে পাঠিয়েছেন। শ্রীশ্রীগুরুদেব পান্ডাজিকে অনুরোধ করলেন আরতি দেখার সুযোগ করে দেবার জন্য। 

        ◾️পান্ডাজি সঙ্গে সঙ্গে রাজি হয়ে বল্লেন -- তিনি সময় মতো ঠিক জায়গায় তাকে বসিয়ে দেবেন। যথারীতি বাবা বিশ্বনাথের রাজবেশ করে আরতির বিরাট আয়োজন হলো -- ঐ সময় মন্দিরে অন্য কেউ থাকতে পারে না, চারদিকে ব্রাহ্মণ এরা সামগান দ্বারা বাবার আরতি কার্য সম্পন্ন করেন। 
       ◾️  পূর্ব উক্ত পান্ডাজি, শ্রীশ্রীগুরুদেব কে বাবার মন্দিরের সদর দরজায় বসিয়ে দিয়ে তিনি পিছনে দাঁড়িয়ে রইলেন এবং বল্লেন-- মহারাজ, ভয় নেই, আমিই আপনাকে রক্ষা করব। 
          ◾️ শ্রীশ্রীগুরুদেব প্রানভরে আরতি দর্শন করছেন আর ওপার আনন্দে জপ করছেন। অনেক্ষন বাদে আরতি শেষ হয় -- সঙ্গে সঙ্গে বহু লোক মন্দিরে ঢুকে পড়ে একেবারে লোকারন্য হয়ে গেল। শ্রীশ্রীগুরুদেব, সকলের আগে বাবা কে কোল দিয়ে সমাধিস্থ হয়ে পড়েন। তখন ঐ সব দর্শনার্থিদের ফুল, বেলপাতা, মালা, জল সবই শ্রীশ্রীগুরুদেবের উপরে পড়তে থাকে। ভিড়ের চাপ সামলানোর শক্তি আর ঐ পান্ডাজির থাকে না -- এদিকে শ্রীশ্রীগুরুদেব তো নির্বিকার, নিষ্পন্দ, সমাধিস্থ। পিছনে এক বৃদ্ধা মা বুক পেতে ঐ ভিড়ের চাপ সামলান এবং চিৎকার করতে থাকেন। 
      ◾️[ পরে জানা যায় ইনি শ্রীশ্রীকুলদানন্দ ব্রহ্মচারী র ভ্রাতুস্পুত্রি, সাধু কিরণ চাঁদ দরবেশজির শিস্যা  -- নাম শ্রীযুক্তা ইন্দুমতি দেবী, পূর্ব নিবাস ঢাকা জেলা। ]
বৃদ্ধা মায়ের চিৎকার মূল পান্ডাজি ছুটে আসেন এবং শ্রীশ্রীগুরুদেব কে উঠিয়ে নেন। সমাধি ভঙ্গ হলে দেখা গেল, বাবার স্নানের দুধ ও জলে শ্রীশ্রীগুরুদেবের সমস্ত শরীর ভিজা, ফুলে ও বহু লোকের চাপ চিহ্ন আদি তার বস্ত্র ও শ্রীঅঙ্গে বিদ্যমান। 
   ◾️  অবাক বিস্ময়ে স্তম্ভ মূল পান্ডাজি, শ্রীশ্রীগুরুদেব কে বাবার আরতি -- চন্দন চর্চিত করে বিরাট এক ছড়া মালা পরিয়ে দিলেন এবং বল্লেন-- ইনি বাবার সচল বিগ্রহ, বহু ভাগ্য গুনে আমাদের দর্শন হল। শ্রীশ্রীগুরুদেব, শ্রীমন্দির থেকে ঐ মায়ের হাত ধরে বাইরে আসতেই বহু লোক তার শ্রীচরণে লুটিয়ে পড়ে। 

শ্রীগুরু জয় 

Friday, May 29, 2020

যে কোনও মুহূর্তে এই জগৎ ছেড়ে আমাদের চলে যেতেই হবে

মাঝে মাঝে এই জড় জগৎ আমাদের এমনই ভাবে জড়িয়ে রাখে যে আমরা ভুলে যাই স্বল্প কালের জন্যই আমরা প্রকৃত পক্ষে এখানে এসেছি।যে কোনও মুহূর্তে এই জগৎ ছেড়ে আমাদের চলে যেতেই হবে।শাস্ত্রে উল্লেখ আছে,
পদম পদম যৎ বিপদম
প্রতিটি পদেই বিপদ আছে।

এই মানব দেহ অতি ক্ষণ ভঙ্গুর এবং যে কোনও মুহূর্তে তার বিনাশ ঘটে যেতে পারে। তা সত্বেও কেমন করে যেন আমরা এই বাস্তব সত্যটুকু ভুলে যাই।আধুনিক জগতে সমস্ত জড় জাগতিক আবিষ্কারের জিনিষ গুলোকে আমরা সুখকর বলে মনে করি কিন্তু তবু মানুষের সুখ হচ্ছে না শান্তি হচ্ছে না উপরন্তু তাদের দুঃখ দুর্দশা বেড়েই চলেছে। নানাবিধ যন্ত্র উৎপাদিত হলেও মানুষ কে জন্ম মৃত্যুর চক্র থেকে মুক্ত হবার উপায় সমন্ধে জানতে হবে।আমাদের হাসপাতাল রয়েছে,উন্নত চিকিৎসা ব্যবস্থা রয়েছে।এখন আমাদের রোগ থাকবে না।কিন্তু তবু আমাদের রোগ কমেনি।হাজার হাজার টাকা ব্যয় করেও ডাক্তার আমাদের মৃত্যুর হাত থেকে রক্ষা করতে পারে না। এমনকি ডাক্তার কে ও একদিন মৃত্যু বরণ করতে হয়।আমরা মৃত্যু কে চাই না তবু মৃত্যু আসে।আর তখন আমাদের যা কিছু আছে আত্মীয় স্বজন সংসার ঘর বাড়ি দোকান টাকা পয়শা সব কিছু ফেলে রেখে এমনকি এই দেহ টি পর্যন্ত ফেলে রেখে যেতে হয়।মৃত্যুর পর আবার অন্য একটি দেহে আমাদের পুনর্জন্ম হয়, জন্ম ও কষ্টকর, জন্ম গ্রহণ করতে না চাইলেও করতে হয় জন্ম, বার বার এই জন্ম মৃত্যুর চক্রে আবর্তিত হওয়ার যে চরম বেদনা তা থেকেই শ্রীগুরু দেব ই আমাদের রক্ষা করতে পারেন।
🍂🍂🍂🍂🍂শ্রীগুরু জয়🍂🍂🍂🍂🍂🍂🍂

বৈষ্ণবদের গুন দর্শন

বৈষ্ণবদের একটা বড়ো গুন হলো,এরা অন্যের শুধু গুন দর্শন করে, কখনো দোষ দর্শন করে না, এরা অদোষ দোষী। শ্রীগুরু দেবের অসীম করুণার ফলে আজ আমরা শ্রী...