Friday, May 29, 2020

এক_মর্মস্পর্শী_ঘটনা

.........#এক_মর্মস্পর্শী_ঘটনা............

ঘটনাটি ব্যক্ত করেছিলেন উপেন দাদা মহাশয় আর লিখেছেন আমাদের গুরু ভ্রাতা শ্রী শংকর কুমার ঘোষ দাদা।

যতদূর সম্ভব এটি দমদম মতিলাল কলোনির ঘটনা।এবার কোনো সেবক পাঠিয়ে নয়। স্বয়ং সূক্ষ্ম দেহে উপস্থিত হয়ে শিষ্য - সন্তান কে মুক্ত করেন। সম্ভবত শ্রী শ্রী ঠাকুরের চক্ষু অপারেশন এর সময় কার ঘটনা। তিনি কেন্দ্রীয় আশ্রমে শয্যায় শায়িত। হাঁটা চলা নিষেধ।বহুদিন যাবৎ ঐ শিষ্য অসুস্থ।হাসপাতাল ফেরত পাঠিয়েছে ওই শিষ্য কে। বাড়িতে স্ত্রী ও এক পুত্র, খুবই দুঃস্থ । রোগীর খাওয়া দাওয়া বন্ধ।তাকাবার এবং কথা বলার মত শক্তি হারিয়েছেন।তার কষ্ট পরিজনরাও সহ্য করতে পারছেন না।লোকের পরামর্শে তার পুত্র প্রায়শ্চিত্ত করেছেন। কিন্তু তাতেও তার কস্টের অবসান হয় না।পুত্র ভাবলো বাবার হয়তো কিছু আকাঙ্খা আছে।
                 তাই বাবার কাছে গিয়ে বললো বাবা তোমার কিছু খাবার বা দেখার ইচ্ছে আছে থাকলে বলো।আমি চেষ্টা করবো তা পূরণের।বাবা এবার বহু কস্ট করে চোখ খুলে ঘরের দেওয়ালে টাঙ্গানো শ্রীশ্রী ঠাকুরের বিগ্রহ এর দিকে ইঙ্গিত করলেন।পুত্রের বুঝতে অসুবিধা হলনা।কিন্তু তা তো সম্ভব নয়।বাবাকে আশ্রমে নিয়ে যাওয়া যেমন সম্ভব নয় তেমনি ঠাকুরকে ও আনা সম্ভব নয়।পুত্রটি মনে মনে ভাবলেন আর ভেঙে পড়লেন আমি এমনই পুত্র বাবার শেষ ইচ্ছা টুকু ও পূরণ করতে পারলাম না।এটা সকালের ঘটনা।
               বিকেলে পাড়ার ছেলে পুলেরা এসে খবর দিল ঐ দেখ তোমার বাড়িতে এক সাধু বাবা আসছেন।উঠোনে বেরিয়ে দেখি সয়ং শ্রীশ্রী ঠাকুর রিকশা চড়ে তাদের বাড়ির দিকে আসছেন। তা দেখে তার জননী গেছেন পাশের বাড়ি একটি ভালো আসন আনতে।তিনি আসন নিয়ে এসে দেখেন তাদের কাঙালের ভগবান তার প্রিয় শিষ্যের মলিন বিছানার কোন এ বসে পড়ে ঝোলা থেকে ফল বের করে মিহি করে বানিয়ে তার মৃত্যু পথ যাত্রী শিষ্যকে সেবা করাচ্ছেন। অসাড় শরীরে সেই শিষ্য ও চোখ মেলে প্রাণ ভরে দর্শন করছেন অগতির গতি কাঙালের ঠাকুর কে।
        এতক্ষণে বাড়ি ভর্তি লোকজন জমা হয়েছে। রোগীর মাথায় বুকে হাত দিলেন এবং উঠে রওনা দিলেন। রিকশায় বসে অন্ধকারে হারিয়ে গেলেন। স্ত্রী ছেলে ফিরে এসে দেখেন রোগীর শেষ অবস্থা আরম্ভ হয়েছে।সকলে বললেন এবার তুলসী তলায় নেওয়া হোক।ছেলে তার বাবার বালিশের তলায় হাত দিয়ে তুলবেন আর স্ত্রী স্বামীর পায়ের দিকে ধরে বের করবেন।এমন সময় ছেলের হাতে কি একটা শক্ত অনুভব হলো।বের করে দেখলেন একটি কাগজের মোরক।
         বাবাকে তুলসী তলায় শুইয়ে দিয়ে ঘরে গিয়ে ঐ মোরক খুলে দেখেন বেশ কিছু টাকা আর কাগজে লেখা
#ইহা_তোমার_পিতার_পারলৌকিক_কর্মে_ব্যয়_করিও
#ইতি_তোমাদের_ঠাকুর
      পরে জানা গেছে ঐ টাকাতে তার বাবার পারলৌকিক কর্ম খুব ভালো ভাবে সম্পন্ন হয়, এই হলো আমাদের অগতীর গতি কাঙালের ঠাকুর গুরুদেব।

................................শ্রীগুরু জয়..........................

No comments:

Post a Comment

বৈষ্ণবদের গুন দর্শন

বৈষ্ণবদের একটা বড়ো গুন হলো,এরা অন্যের শুধু গুন দর্শন করে, কখনো দোষ দর্শন করে না, এরা অদোষ দোষী। শ্রীগুরু দেবের অসীম করুণার ফলে আজ আমরা শ্রী...