🍂🌿 #স্বয়ং_জ্যান্ত_শিব_শ্রীদূর্গাপ্রসন্ন🍂🌿
🍂🌿🍂🌿🍂#চলতা_শিব🍂🌿🍂🌿🍂🌿
..........................................................................
১৩৬০ সালের ভাদ্র মাসে কাশীধামে শ্রীশ্রীগুরুদেব এর একটি অপূর্ব লীলার কথা বিশেষ উল্লেখযোগ্য। ১৪ই ভাদ্র শ্রীকৃষ্ণের জন্মাষ্টমীর দিন -- সকালে কয়েকজন কে দীক্ষা দান করে, সন্ধ্যায় বাবা বিশ্বনাথের বাড়ির সংলগ্ন অন্য মন্দিরাদি দর্শন করে বাবার সন্ধ্যারতি দর্শনের উদ্দেশ্যে শ্রীশ্রীগুরুদেব সেখানে অপেক্ষা করতে থাকেন। শ্রীশ্রীগুরুদেব এর শরীর ও খুব একটা ভালো নয়। প্রচন্ড ভিড়ের মধ্যে তার পক্ষে আরতি দর্শনাদি করা প্রায় অসম্ভব। দীর্ঘকায় একজন পান্ডা কে দেখে তার মনে হলো -- বাবা বিশ্বনাথ ওনাকে যেন তার কাছে পাঠিয়েছেন। শ্রীশ্রীগুরুদেব পান্ডাজিকে অনুরোধ করলেন আরতি দেখার সুযোগ করে দেবার জন্য।
◾️পান্ডাজি সঙ্গে সঙ্গে রাজি হয়ে বল্লেন -- তিনি সময় মতো ঠিক জায়গায় তাকে বসিয়ে দেবেন। যথারীতি বাবা বিশ্বনাথের রাজবেশ করে আরতির বিরাট আয়োজন হলো -- ঐ সময় মন্দিরে অন্য কেউ থাকতে পারে না, চারদিকে ব্রাহ্মণ এরা সামগান দ্বারা বাবার আরতি কার্য সম্পন্ন করেন।
◾️ পূর্ব উক্ত পান্ডাজি, শ্রীশ্রীগুরুদেব কে বাবার মন্দিরের সদর দরজায় বসিয়ে দিয়ে তিনি পিছনে দাঁড়িয়ে রইলেন এবং বল্লেন-- মহারাজ, ভয় নেই, আমিই আপনাকে রক্ষা করব।
◾️ শ্রীশ্রীগুরুদেব প্রানভরে আরতি দর্শন করছেন আর ওপার আনন্দে জপ করছেন। অনেক্ষন বাদে আরতি শেষ হয় -- সঙ্গে সঙ্গে বহু লোক মন্দিরে ঢুকে পড়ে একেবারে লোকারন্য হয়ে গেল। শ্রীশ্রীগুরুদেব, সকলের আগে বাবা কে কোল দিয়ে সমাধিস্থ হয়ে পড়েন। তখন ঐ সব দর্শনার্থিদের ফুল, বেলপাতা, মালা, জল সবই শ্রীশ্রীগুরুদেবের উপরে পড়তে থাকে। ভিড়ের চাপ সামলানোর শক্তি আর ঐ পান্ডাজির থাকে না -- এদিকে শ্রীশ্রীগুরুদেব তো নির্বিকার, নিষ্পন্দ, সমাধিস্থ। পিছনে এক বৃদ্ধা মা বুক পেতে ঐ ভিড়ের চাপ সামলান এবং চিৎকার করতে থাকেন।
◾️[ পরে জানা যায় ইনি শ্রীশ্রীকুলদানন্দ ব্রহ্মচারী র ভ্রাতুস্পুত্রি, সাধু কিরণ চাঁদ দরবেশজির শিস্যা -- নাম শ্রীযুক্তা ইন্দুমতি দেবী, পূর্ব নিবাস ঢাকা জেলা। ]
বৃদ্ধা মায়ের চিৎকার মূল পান্ডাজি ছুটে আসেন এবং শ্রীশ্রীগুরুদেব কে উঠিয়ে নেন। সমাধি ভঙ্গ হলে দেখা গেল, বাবার স্নানের দুধ ও জলে শ্রীশ্রীগুরুদেবের সমস্ত শরীর ভিজা, ফুলে ও বহু লোকের চাপ চিহ্ন আদি তার বস্ত্র ও শ্রীঅঙ্গে বিদ্যমান।
◾️ অবাক বিস্ময়ে স্তম্ভ মূল পান্ডাজি, শ্রীশ্রীগুরুদেব কে বাবার আরতি -- চন্দন চর্চিত করে বিরাট এক ছড়া মালা পরিয়ে দিলেন এবং বল্লেন-- ইনি বাবার সচল বিগ্রহ, বহু ভাগ্য গুনে আমাদের দর্শন হল। শ্রীশ্রীগুরুদেব, শ্রীমন্দির থেকে ঐ মায়ের হাত ধরে বাইরে আসতেই বহু লোক তার শ্রীচরণে লুটিয়ে পড়ে।
শ্রীগুরু জয়

No comments:
Post a Comment