Sunday, May 31, 2020

বৈষ্ণবদের গুন দর্শন

বৈষ্ণবদের একটা বড়ো গুন হলো,এরা অন্যের শুধু গুন দর্শন করে, কখনো দোষ দর্শন করে না, এরা অদোষ দোষী।

শ্রীগুরু দেবের অসীম করুণার ফলে আজ আমরা শ্রীগুরু সঙ্ঘের অমৃত ধারায় যুক্ত হতে পেরেছি।খুঁজে পেয়েছি জীবনের গন্তব্যস্থল, পৌঁছাবার উপায় ও আমাদের জানা, শুধু মাত্র সদ ব্যবহার করতে হবে সেই উপায়ের পন্থা। আমরা যাতে ঐক্যবদ্ধ ভাবে এগিয়ে যেতে পারি , একত্র ভূত হবার মধ্যেই নিহিত রয়েছে শক্তি, তাই প্রাণের গুরুদেব সৃষ্টি করেছিলেন সঙ্ঘ রূপ শক্তি।
 আমাদের এই শরীর বিনাশী, আমাদের আত্মা অবিনাশী। যখন কোনো পরিহিত বস্তু সামগ্রী ব্যবহার এর অযোগ্য হয় ওঠে তখন আমরা সেই পোশাক পরিবর্তন করি। তেমনি আমাদের শরীর টা যখন জীর্ণ হয় তখন আত্মা সেই শরীর ত্যাগ করে নতুন শরীরে স্থান লাভ করে।

গীতায় বলা হয়
জ্ঞাতশ্যহি ধ্রুবং মৃত্যু
অর্থাৎ জন্ম হলে মরতেই হবে
কিন্তু আমাদের কোথাও কোনোদিন এই বিষয়ে বলা হতো না, স্কুলে, কলেজে কোথাও শেখানো হয় নি আত্মার সরূপ, নিজেদের আত্মা কে নিরন্তর খোঁজার প্রয়াসে খুঁজে পাওয়া সম্ভব ঈশ্বর কে ,তাই তো গীতায় বলেছেন শ্রীকৃষ্ণ
শিনন্ত বিশ্বে অমৃতস্য পূত্রা
আমরা অমৃতের পুত্র, আমাদের খুঁজে পেতে হবে জীবনের পথ, তাই শ্রীগুরু চরণে নিজেদের উৎসর্গ করে আত্মার বিশ্লেষন করার পন্থা অবলম্বনের মাধ্যমেই আমরা অমৃতের পুত্র হতে পারি।
কলি যুগে পাপ এর হাত থেকে পরিত্রাণ পাবার জন্য গুরুদেব আমাদের জন্য তৈরি করলেন সঙ্ঘ।সঙ্ঘ শক্তি কলিযুগে।
কলির আরেক নাম অধর্ম বন্ধু।কলহের মাধ্যমে বিভেদ সৃষ্টি করাই একমাত্র কাজ কলির। তার ফলে তৈরি হবে অধর্ম আর বিপরীতে এই কলির হাত থেকে রক্ষার জন্য ধরা ধামে আবির্ভূত হলেন শ্রী চৈতন্য মহাপ্রভু, গুরুদেব তার লীলা ধারক হয় প্রচার করলেন শ্রী নাম সংকীর্তন। ক্ষুদা আছে খাদ্য নাই -- এই বিশেষ কথাটির তাৎপর্য একমাত্র শ্রীগুরু সঙ্ঘের আশ্রয়কারি রাই হৃদয়ঙ্গম করতে পারবেন।
চৈতন্য চন্দ্রদয় থেকে জানা যায়
যখন ধরাধামে শ্রী চৈতন্য মহাপ্রভুর জন্ম হলো তখন কলি ভয়ে কাপতে লাগলো, তখন কলির পর্ষদ রা বলতে লাগলো হে কলিরাজ আপনি কেন ভয় পাচ্ছেন?
কলি বললো দেখো ওই ব্রাহ্মন বালক টি জন্ম নিয়েছে যার প্রভাবে আমার সমস্ত অধর্ম নষ্ট হয় যাবে।
তখন ক্রোধ এগিয়ে এসে বলল আমাদের প্রভাবে তো সমস্ত ব্রাহ্মন সমাজ টাই নষ্ট হয় গেছে, আমাদের প্রভাবেই তো ব্রাহ্মন রা কত অধর্ম পালন করেছে, সতীদাহ প্রথা, কৌলিন্য প্রথা, যজ্ঞ বিধির বেদের নাম করে তারা তো সব আজ অধর্ম পালন করতে ব্যস্ত।
তখন কলি বললো এই বালক সমস্ত টাই আলাদা, ওর নির্মল হৃদয়ে সবাইকে সঙ্ঘ বদ্ধ করে সঙ্ঘ শক্তির মাধ্যমেই আমাদের পরাস্ত করবে।
ক্রোধ এগিয়ে এসে বলল রাজন আমি এদের সঙ্ঘ শক্তিতে ক্রোধের সঞ্চার করে এদের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করবো তাতে এরা পরাস্ত হবেই।
কলি বলল:- এর সাথে যারা থাকবে তাদের হৃদয় এত কোমল হবে যেখানে ক্রোধের স্থান থাকবে না,থাকবে ক্ষমার গুন, আসবে সহন শিলতা,এদের কাছে তুমি নিজেও পরাস্ত হবে।
এবার লোভ এসে বললো হে কলিরাজ আমি এদের মধ্যে লোভের সঞ্চার করে এদের মধ্যে হিংসা সৃষ্টি করে এদের আলাদা করে দেবো, তখন কলীরাজ বলল এরা সংঘবদ্ধ হয়ে সংকীর্তন করবে এদের কাছে ভগবৎ কৃপার লোভ ব্যতীত কোনো কিছুর লোভ থাকবে না, তাই তোমার পন্থা এদের নির্লোভ হৃদয়ে স্থান পাবে না।তুমিও পরাস্ত হবে।
কাম উত্তেজিত হয়, বলে সমস্ত ছেলে মেয়ে রা যে রয়েছে ওদের মাঝে আমি কামের সঞ্চার করে ওদের কে অনৈতিকতার মাধ্যমে পাপের সঞ্চার করে এদের বিভেদ সৃষ্টি করবো, কিন্তু কলিরাজ বললেন এই বালকটির প্রভাবে হরি নাম যেখানে হবে সেখানে কামের কোনো প্রভাব তৈরি হবে না।
শ্রী চৈতন্য মহাপ্রভুর লীলার ধারক রূপে তেমনি আবির্ভূত হলেন শ্রী শ্রী দুর্গা প্রসন্ন পরম হংস দেব। আমাদের উদ্ধারের তাগিদে তৈরি করলেন শ্রীগুরু সঙ্ঘ, সংকীর্তনের সাথে যুক্ত হবার জন্য প্রস্তুত করলেন সঙ্ঘ রূপ এক বিশাল মহীরুহ। যাতে আবার প্রতিষ্ঠিত হয় ১০ হাজার বছরের সত্য যুগ। কলির কালিমা মুছে দিতেই তার কৃপা লাভের জন্য তিনি বিধান দিয়েছিলেন শ্রীগুরু সঙ্ঘ আমার প্রাণ। তাই আসুন সঙ্ঘ করি,সঙ্ঘ রূপ শ্রীগুরু ভগবানের কৃপায় যেন আমরা প্রকাশিত হতে পারি। পরের তরে সত্য সেবা নীতি ধর্মের আঙিনায় যেন আরো এগিয়ে যেতে পারি।তাই তো কবিতার ছন্দে বলাই যেতে পারে :-
ভারত ভূমিতে হইল মনুষ্য জন্ম যার
জন্ম সার্থক করি কর পর উপকার।।

শ্রীগুরু জয়

স্বয়ং_জ্যান্ত_শিব_শ্রীদূর্গাপ্রসন্ন

🍂🌿 #স্বয়ং_জ্যান্ত_শিব_শ্রীদূর্গাপ্রসন্ন🍂🌿
🍂🌿🍂🌿🍂#চলতা_শিব🍂🌿🍂🌿🍂🌿
..........................................................................
১৩৬০ সালের ভাদ্র মাসে কাশীধামে শ্রীশ্রীগুরুদেব এর একটি অপূর্ব লীলার কথা বিশেষ উল্লেখযোগ্য। ১৪ই ভাদ্র শ্রীকৃষ্ণের জন্মাষ্টমীর দিন -- সকালে কয়েকজন কে দীক্ষা দান করে, সন্ধ্যায় বাবা বিশ্বনাথের বাড়ির সংলগ্ন অন্য মন্দিরাদি দর্শন করে বাবার সন্ধ্যারতি দর্শনের উদ্দেশ্যে শ্রীশ্রীগুরুদেব সেখানে অপেক্ষা করতে থাকেন। শ্রীশ্রীগুরুদেব এর শরীর ও খুব একটা ভালো নয়। প্রচন্ড ভিড়ের মধ্যে তার পক্ষে আরতি দর্শনাদি করা প্রায় অসম্ভব। দীর্ঘকায় একজন পান্ডা কে দেখে তার মনে হলো -- বাবা বিশ্বনাথ ওনাকে যেন তার কাছে পাঠিয়েছেন। শ্রীশ্রীগুরুদেব পান্ডাজিকে অনুরোধ করলেন আরতি দেখার সুযোগ করে দেবার জন্য। 

        ◾️পান্ডাজি সঙ্গে সঙ্গে রাজি হয়ে বল্লেন -- তিনি সময় মতো ঠিক জায়গায় তাকে বসিয়ে দেবেন। যথারীতি বাবা বিশ্বনাথের রাজবেশ করে আরতির বিরাট আয়োজন হলো -- ঐ সময় মন্দিরে অন্য কেউ থাকতে পারে না, চারদিকে ব্রাহ্মণ এরা সামগান দ্বারা বাবার আরতি কার্য সম্পন্ন করেন। 
       ◾️  পূর্ব উক্ত পান্ডাজি, শ্রীশ্রীগুরুদেব কে বাবার মন্দিরের সদর দরজায় বসিয়ে দিয়ে তিনি পিছনে দাঁড়িয়ে রইলেন এবং বল্লেন-- মহারাজ, ভয় নেই, আমিই আপনাকে রক্ষা করব। 
          ◾️ শ্রীশ্রীগুরুদেব প্রানভরে আরতি দর্শন করছেন আর ওপার আনন্দে জপ করছেন। অনেক্ষন বাদে আরতি শেষ হয় -- সঙ্গে সঙ্গে বহু লোক মন্দিরে ঢুকে পড়ে একেবারে লোকারন্য হয়ে গেল। শ্রীশ্রীগুরুদেব, সকলের আগে বাবা কে কোল দিয়ে সমাধিস্থ হয়ে পড়েন। তখন ঐ সব দর্শনার্থিদের ফুল, বেলপাতা, মালা, জল সবই শ্রীশ্রীগুরুদেবের উপরে পড়তে থাকে। ভিড়ের চাপ সামলানোর শক্তি আর ঐ পান্ডাজির থাকে না -- এদিকে শ্রীশ্রীগুরুদেব তো নির্বিকার, নিষ্পন্দ, সমাধিস্থ। পিছনে এক বৃদ্ধা মা বুক পেতে ঐ ভিড়ের চাপ সামলান এবং চিৎকার করতে থাকেন। 
      ◾️[ পরে জানা যায় ইনি শ্রীশ্রীকুলদানন্দ ব্রহ্মচারী র ভ্রাতুস্পুত্রি, সাধু কিরণ চাঁদ দরবেশজির শিস্যা  -- নাম শ্রীযুক্তা ইন্দুমতি দেবী, পূর্ব নিবাস ঢাকা জেলা। ]
বৃদ্ধা মায়ের চিৎকার মূল পান্ডাজি ছুটে আসেন এবং শ্রীশ্রীগুরুদেব কে উঠিয়ে নেন। সমাধি ভঙ্গ হলে দেখা গেল, বাবার স্নানের দুধ ও জলে শ্রীশ্রীগুরুদেবের সমস্ত শরীর ভিজা, ফুলে ও বহু লোকের চাপ চিহ্ন আদি তার বস্ত্র ও শ্রীঅঙ্গে বিদ্যমান। 
   ◾️  অবাক বিস্ময়ে স্তম্ভ মূল পান্ডাজি, শ্রীশ্রীগুরুদেব কে বাবার আরতি -- চন্দন চর্চিত করে বিরাট এক ছড়া মালা পরিয়ে দিলেন এবং বল্লেন-- ইনি বাবার সচল বিগ্রহ, বহু ভাগ্য গুনে আমাদের দর্শন হল। শ্রীশ্রীগুরুদেব, শ্রীমন্দির থেকে ঐ মায়ের হাত ধরে বাইরে আসতেই বহু লোক তার শ্রীচরণে লুটিয়ে পড়ে। 

শ্রীগুরু জয় 

Friday, May 29, 2020

যে কোনও মুহূর্তে এই জগৎ ছেড়ে আমাদের চলে যেতেই হবে

মাঝে মাঝে এই জড় জগৎ আমাদের এমনই ভাবে জড়িয়ে রাখে যে আমরা ভুলে যাই স্বল্প কালের জন্যই আমরা প্রকৃত পক্ষে এখানে এসেছি।যে কোনও মুহূর্তে এই জগৎ ছেড়ে আমাদের চলে যেতেই হবে।শাস্ত্রে উল্লেখ আছে,
পদম পদম যৎ বিপদম
প্রতিটি পদেই বিপদ আছে।

এই মানব দেহ অতি ক্ষণ ভঙ্গুর এবং যে কোনও মুহূর্তে তার বিনাশ ঘটে যেতে পারে। তা সত্বেও কেমন করে যেন আমরা এই বাস্তব সত্যটুকু ভুলে যাই।আধুনিক জগতে সমস্ত জড় জাগতিক আবিষ্কারের জিনিষ গুলোকে আমরা সুখকর বলে মনে করি কিন্তু তবু মানুষের সুখ হচ্ছে না শান্তি হচ্ছে না উপরন্তু তাদের দুঃখ দুর্দশা বেড়েই চলেছে। নানাবিধ যন্ত্র উৎপাদিত হলেও মানুষ কে জন্ম মৃত্যুর চক্র থেকে মুক্ত হবার উপায় সমন্ধে জানতে হবে।আমাদের হাসপাতাল রয়েছে,উন্নত চিকিৎসা ব্যবস্থা রয়েছে।এখন আমাদের রোগ থাকবে না।কিন্তু তবু আমাদের রোগ কমেনি।হাজার হাজার টাকা ব্যয় করেও ডাক্তার আমাদের মৃত্যুর হাত থেকে রক্ষা করতে পারে না। এমনকি ডাক্তার কে ও একদিন মৃত্যু বরণ করতে হয়।আমরা মৃত্যু কে চাই না তবু মৃত্যু আসে।আর তখন আমাদের যা কিছু আছে আত্মীয় স্বজন সংসার ঘর বাড়ি দোকান টাকা পয়শা সব কিছু ফেলে রেখে এমনকি এই দেহ টি পর্যন্ত ফেলে রেখে যেতে হয়।মৃত্যুর পর আবার অন্য একটি দেহে আমাদের পুনর্জন্ম হয়, জন্ম ও কষ্টকর, জন্ম গ্রহণ করতে না চাইলেও করতে হয় জন্ম, বার বার এই জন্ম মৃত্যুর চক্রে আবর্তিত হওয়ার যে চরম বেদনা তা থেকেই শ্রীগুরু দেব ই আমাদের রক্ষা করতে পারেন।
🍂🍂🍂🍂🍂শ্রীগুরু জয়🍂🍂🍂🍂🍂🍂🍂

শিষ্য হওয়া খুব সোজা নয়

শিষ্য হওয়া খুব সোজা নয় ,শুধু দীক্ষা নিলেই আর নীতি কথা অক্ষরে অক্ষরে মেনে চললেই প্রকৃত শিষ্য হওয়া যায় না,শিষ্য হতে গেলে আগে গুরু কে চিনতে হবে,তার জানতে হবে গুরুদেব আসলে কি চান কিংবা তার কি বাসনা , যে বা যারা এই ব্যাপার টা বুঝতে পারেনা তারা মূর্খ শিষ্য রূপে পরিগণিত হয় এবং ভগবত বুদ্ধি লাভ করতে অসমর্থ হয়।
এই নিয়ে একটি সুন্দর কাহিনী তুলে ধরছি আপনাদের কাছে,
একবার এক গুরু ঘোড়ায় চড়ে যাচ্ছিলেন,সঙ্গে তার শিষ্য ছিল। চলতে চলতে একটা কাপড় পড়ে যায়, গুরু তার শিষ্য টিকে জিজ্ঞাসা করলেন,আমার কাপড়টা কোথায়?
শিষ্য টি বলল , পড়ে গেছে।

কেন তুমি কুড়িয়ে নাও নি? জানতে চান গুরু।
আপনি তো আমাকে ওটা তুলে নিতে বলেননি।আপনি যা বলবেন ,তাই তো করবো, জবাব দেয় শিষ্য টি।
এটাও কি তোমাকে বলে দিতে হবে,যে ঘোড়া থেকে একটা কাপড় পড়ে গেলে তুমি অবশ্যই তুলে দেবে?
গুরুদেব আপনি না বললে তো জানতে পারব না।কৃপা করে বলে দিন আমাকে কি কি কাজ করতে হবে।
বেশ ঠিক আছে, ঘোড়া থেকে যা কিছু পরে যাবে ,তুমি নিশ্চই তুলে নিয়ে আমাকে দেবে।
আবার তারা চলতে শুরু করলো,কিছুক্ষণ পর ঘোড়াটি বিষ্ঠা ত্যাগ করলো, শিষ্য টি তখনই তা তুলে নিয়ে গুরুদেব কে দিল,এই নিন গুরুদেব।
এ কি ! গুরুদেব চমকে উঠলেন।
ঘোড়ার বিষ্ঠা।
এ তো আমি চাইনি।
কিন্তু এটাই তো ঘোড়া থেকে পড়লো।আপনি যে আমাকে বললেন ,যা কিছু ঘোড়া থেকে পড়ে যাবে তা তুলে নিয়ে আপনাকে দিতে।তাই তো আপনাকে এটা দিচ্ছি।
আমি এই বিষ্ঠা চাইনি।
এতো ভারী গোলমাল হলো,গুরুদেব।একবার আপনি বলেন ঘোড়া থেকে যা কিছু পড়বে সব তুলে আমাকে দাও, আর তারপর বলছেন, ' বিষ্ঠা তুলো না।' এ কেমন হল? এ আমার কাছে ভারী দ্বন্দ লাগছে। দয়া করে আমাকে লিখে দিন না কি কি জিনিস আমাকে তুলে নিতে হবে। তাই গুরু একটা ফর্দ লিখে তাকে দিলেন। জামা ,চাদর, ধুতি,থলি ইত্যাদি, এই ফর্দে যা নেই, তা তুলো না , ' তিনি সাবধান করে দিলেন।
যেতে যেতে হটাৎ কতগুলো শেয়াল ছুটে এলে ঘোড়া টি ভয় পেয়ে লাফিয়ে উঠতেই গুরুদেব ঘোড়া থেকে পড়ে গিয়ে সঙ্গে সঙ্গে জ্ঞান হারালেন। শিষ্য টি তাড়াতাড়ি সেই ফর্দ টি খুলে তুলে নিতে লাগল জামা,চাদর,ধুতি,থলি ইত্যাদি আর সেই সব কিছু ঘোড়ার উপরে রেখে দিলেন।বেচারি গুরুদেব জ্ঞানহারা হয় মাটিতে পরেই থাকলেন।
অবশেষে চেতনা ফিরে এলে গুরুদেব একেবারে দিগম্বর অবস্থায় নিজেকে পড়ে থাকতে দেখলেন। ' কি হলো? আমাকে এখানে এমনি ভাবে ফেলে রেখেছ কেন? আমাকে তোলনি কেন?
ফর্দে তো আপনার নাম নেই,গুরুদেব। ফর্দে আপনি যা যা লিখে দিয়েছেন,প্রতিটি জিনিষ আমি ঘোড়ার পিঠে বোঝাই করে রেখেছি। এই হল এক ধরনের শিষ্য যে অক্ষরে অক্ষরে নীতি কথা মেনে চলে,কিন্তু গুরুর অভিলাষ বুঝে নিতে পারে না শুধু মাত্র অক্ষর ধরে বুঝতে গেলে ভক্তি পথে বেশিদূর অগ্রসর হওয়া যায় না।অন্তর্যামী পুরুষ ভাবগ্রাহী,হৃদয় দিয়ে মনে প্রাণে তা উপলব্ধি করতে হয়।
এজন্য শিষ্য হতে হবে জিজ্ঞাসুপর।সর্বাগ্রে নিজের যাবতীয় অহমিকা বিসর্জন দিয়ে গুরুদেবের চরণে আত্ম সমর্পন করতে হবে।

তদ্বিদ্বি প্রণিপাতেন পরিপ্রশ্নেন সেবয়া
উপদেক্ষন্তি তে জ্ঞানং জ্ঞানিনস্তত্ত্বদর্শিন:।।
🍂🍂🍂🍂🍂🍂🍂🍂🍂🍂🍂🍂🍂🍂
শ্রীগুরু জয়----- শ্রীগুরু জয় ------ শ্রীগুরু জয়।।
🙏

শিষ্য দের ভগবত ভক্তি মূলক সেবা অনুশীলন করা

নিজেদের গড়ে তোলার উদ্দেশেই শিষ্য দের ভগবত ভক্তি মূলক সেবা অনুশীলন করা উচিত।একমাত্র গুরুদেব জানেন কিভাবে ভগবত ভক্তি অনুশীলন করতে হয়। এই ভাবেই আমরা পরিশুদ্ধ হয় উঠি, আর সেবা উপলব্ধি নিয়ে আমরা সব কিছু বুঝতে শিখি।কিন্তু কিছু শিষ্য মনে করেন মন্দিরে থেকে কেন আমাকে এত কিছু করতে বলা হচ্ছে? অনেক কিছুই আমি করে দিয়েছি, কত জিনিষ ত্যাগ করেছি।আর বেশি কিছু নিশ্চই আমাকে করতে হবে না, মাঝে মাঝে শিষ্য রা মন্দির ত্যাগ করে চলে যায়,এবং তারা ভাবে কত বৎসর তো মন্দিরের জন্য আমি কাজ করলাম কিন্তু কিছুই তো পেলাম না কিন্তু তারা বোঝে না সেবা করার প্রকৃত উদ্দেশ্য টা কি।

নিস্কপট শিষ্য গণের প্রীতির সহিত শ্রীগুরু দেবের সেবা করা উচিত কেননা গুরু সেবাই ভগবান কে লাভ করার একমাত্র উপায়।কিন্তু যারা কপট ও অহংকারী তারা গুরু সেবার অভিনয় করেও ভগবানের কৃপা লাভ করতে পারে না।
শ্রীগুরু জয়
🍂🍂🍂🍂🍂🍂🍂🍂🍂🍂🍂🍂🍂🍂🍂🍂🍂

মায়েদের উদ্দেশ্যে আমাদের প্রাণের গুরুদেবের কিছু উপদেশ

মায়েদের উদ্দেশ্যে আমাদের প্রাণের গুরুদেবের কিছু উপদেশ নিম্নে বর্ণিত করা হলো

মা সন্তান কে বড়ো করার জন্য অনেক কষ্ট করেন।কারণ মায়ের মায়া, মমতার বা মাতৃ স্নেহের সাথে তুলনা হয় না।স্নেহময়ী মা সদা সন্তানের মঙ্গল কামনা করেন।এজন্য নিজেকে নিঃশেষ করে দেন।এবার ভেবে দেখ এই সন্তান যদি মা কে অবহেলা করে তখন মায়ের একমাত্র অবলম্বন চোখের জল।
মা তোমাদের অনেকের চোখের জল আমি দেখতে পেয়েছি,এই জন্য বহু বছর ধরে তোমাদের উপদেশ দিয়েছি। সঞ্চয় করো।আমি জানি সকলের আর্থিক অবস্থা সচ্ছল নয়।অনেকেই কোনো রকমে সংসার ধরে রেখেছ। তোমরা গৃহ লক্ষ্মী,তোমরা শক্তির রূপ।তোমাদের হাতেই সঞ্চয় হবে।সঞ্চয় তুমি করবে সংসারের জন্য।অসময়ে তোমাদের শান্তি দেবে।সংসার চালাবে তোমরা। অযথা ব্যয় বা অপচয় বন্ধ করো।জটিল সংসারেও শান্তি বজায় রাখ।অর্থের প্রয়োজনীয়তা বোঝ ,বোঝাও।


শিশু কে নম্রতা শেখাও, ভক্তি শেখাও, নিজের বাবা মা কে  ভক্তি শ্রদ্ধা করেনা সে ভগবান কেও ভালোবাসে না। ভগবানের কৃপাও পাওয়া যায় না।
নম্রতা না শেখালে সহানুভূতি যে কত প্রয়োজন তা বুঝতে পারবে না।সহানুভূতি না দেখালে সহানুভূতি পাওয়া যায় না । আধুনিক হতে গিয়ে ভক্তি শ্রদ্ধা যেন কমে গেছে।আমাদের ভারতীয় ধারায় গুরুজন কে ভক্তি বা শ্রদ্ধা জানাবার জন্য পা স্পর্শ করে প্রণাম করি।আজকাল সে রীতিও লোপ পেতে চলেছে।এখানে আবার অন্য ধরনের ব্যাখ্যা পাওয়া যায়।এর ফলে বয়ষ্ক দের সন্মান কমে গেছে।
🍂🍂🍂🍂🍂🍂 শ্রীগুরু জয় 🍂🍂🍂🍂🍂🍂

গুরু দেবের ডায়েরী

গুরুদেব শ্রী শ্রী দুর্গা প্রসন্ন পরম হংস দেব এর বেদনা ক্ষরিত হয়েছে পশু পাখি কীট পতঙ্গের জন্যও।তিনি নিজের হাতে পাখির বন্ধন মুক্ত করেছেন, শস্য শূন্য শ্রী শূন্য বসুমাতার বুকে বৃষ্টি নামিয়েছেন শ্রী শ্রী তারক ব্রহ্ম নাম সংকীর্তনের মাধ্যমে। একটি কুকুরের যার নাম তিনি রেখেছিলেন কালাচাঁদ ,প্রিয় ব্যবহারে তিনি দুঃখ বোধ করেছেন। এ সম্পর্কে শ্রী শ্রী ঠাকুর লিখেছেন ---

নীলপুর আশ্রমে আসা অবধি এক দুই দিন পরে একটি কাল বর্ণের কুকুর আশ্রমে আসিল।উক্ত কুকুরটি আশ্রমে আসা অবধি আর কোথাও যায় না।কেবল আশ্রমে থাকিয়া সর্বদা শ্রী কৃষ্ণের নাম কীর্তন এবং ভগবত পাঠ ইত্যাদি সভার মধ্যে ঘুরে ঘুরে শুনিত এবং অনেক সময় কীর্তনের মাঝে শুইয়া গড়াগড়ি ও দিত।লোকের নিকটে থাকিতেই ভালবাসিত। সেই কুকুরটির নাম আমি কালাচাঁদ রেখেছি।আমি যখন কলিকাতা অভিমুখে যাত্রা করিলাম তখন সেই কুকুরটি আমার রিক্সার চতুর্দিকে ঘুরিতে লাগিল এবং মস্তক অবনত ভাবে গাড়ির সঙ্গে ঠেকাইতে লাগিল,মনে হয় যেন যেতে নিষেধ করিতেছে। শেষে সেই কুকুরটি একবার আগে আবার পাছে হেঁটে হেঁটে স্টেশন পর্যন্ত ই এসেছিল।তখন তাহার ভাব দেখে আমি গাড়ি ছাড়ার সময় প্রাণে বড়ই দুঃখ অনুভব করিতে লাগিলাম।
 ( ডায়েরী, ২ য় খণ্ড, ৩৫ নং পাতা)
শ্রীগুরু জয়
🙏🙏🙏

এক_মর্মস্পর্শী_ঘটনা

.........#এক_মর্মস্পর্শী_ঘটনা............

ঘটনাটি ব্যক্ত করেছিলেন উপেন দাদা মহাশয় আর লিখেছেন আমাদের গুরু ভ্রাতা শ্রী শংকর কুমার ঘোষ দাদা।

যতদূর সম্ভব এটি দমদম মতিলাল কলোনির ঘটনা।এবার কোনো সেবক পাঠিয়ে নয়। স্বয়ং সূক্ষ্ম দেহে উপস্থিত হয়ে শিষ্য - সন্তান কে মুক্ত করেন। সম্ভবত শ্রী শ্রী ঠাকুরের চক্ষু অপারেশন এর সময় কার ঘটনা। তিনি কেন্দ্রীয় আশ্রমে শয্যায় শায়িত। হাঁটা চলা নিষেধ।বহুদিন যাবৎ ঐ শিষ্য অসুস্থ।হাসপাতাল ফেরত পাঠিয়েছে ওই শিষ্য কে। বাড়িতে স্ত্রী ও এক পুত্র, খুবই দুঃস্থ । রোগীর খাওয়া দাওয়া বন্ধ।তাকাবার এবং কথা বলার মত শক্তি হারিয়েছেন।তার কষ্ট পরিজনরাও সহ্য করতে পারছেন না।লোকের পরামর্শে তার পুত্র প্রায়শ্চিত্ত করেছেন। কিন্তু তাতেও তার কস্টের অবসান হয় না।পুত্র ভাবলো বাবার হয়তো কিছু আকাঙ্খা আছে।
                 তাই বাবার কাছে গিয়ে বললো বাবা তোমার কিছু খাবার বা দেখার ইচ্ছে আছে থাকলে বলো।আমি চেষ্টা করবো তা পূরণের।বাবা এবার বহু কস্ট করে চোখ খুলে ঘরের দেওয়ালে টাঙ্গানো শ্রীশ্রী ঠাকুরের বিগ্রহ এর দিকে ইঙ্গিত করলেন।পুত্রের বুঝতে অসুবিধা হলনা।কিন্তু তা তো সম্ভব নয়।বাবাকে আশ্রমে নিয়ে যাওয়া যেমন সম্ভব নয় তেমনি ঠাকুরকে ও আনা সম্ভব নয়।পুত্রটি মনে মনে ভাবলেন আর ভেঙে পড়লেন আমি এমনই পুত্র বাবার শেষ ইচ্ছা টুকু ও পূরণ করতে পারলাম না।এটা সকালের ঘটনা।
               বিকেলে পাড়ার ছেলে পুলেরা এসে খবর দিল ঐ দেখ তোমার বাড়িতে এক সাধু বাবা আসছেন।উঠোনে বেরিয়ে দেখি সয়ং শ্রীশ্রী ঠাকুর রিকশা চড়ে তাদের বাড়ির দিকে আসছেন। তা দেখে তার জননী গেছেন পাশের বাড়ি একটি ভালো আসন আনতে।তিনি আসন নিয়ে এসে দেখেন তাদের কাঙালের ভগবান তার প্রিয় শিষ্যের মলিন বিছানার কোন এ বসে পড়ে ঝোলা থেকে ফল বের করে মিহি করে বানিয়ে তার মৃত্যু পথ যাত্রী শিষ্যকে সেবা করাচ্ছেন। অসাড় শরীরে সেই শিষ্য ও চোখ মেলে প্রাণ ভরে দর্শন করছেন অগতির গতি কাঙালের ঠাকুর কে।
        এতক্ষণে বাড়ি ভর্তি লোকজন জমা হয়েছে। রোগীর মাথায় বুকে হাত দিলেন এবং উঠে রওনা দিলেন। রিকশায় বসে অন্ধকারে হারিয়ে গেলেন। স্ত্রী ছেলে ফিরে এসে দেখেন রোগীর শেষ অবস্থা আরম্ভ হয়েছে।সকলে বললেন এবার তুলসী তলায় নেওয়া হোক।ছেলে তার বাবার বালিশের তলায় হাত দিয়ে তুলবেন আর স্ত্রী স্বামীর পায়ের দিকে ধরে বের করবেন।এমন সময় ছেলের হাতে কি একটা শক্ত অনুভব হলো।বের করে দেখলেন একটি কাগজের মোরক।
         বাবাকে তুলসী তলায় শুইয়ে দিয়ে ঘরে গিয়ে ঐ মোরক খুলে দেখেন বেশ কিছু টাকা আর কাগজে লেখা
#ইহা_তোমার_পিতার_পারলৌকিক_কর্মে_ব্যয়_করিও
#ইতি_তোমাদের_ঠাকুর
      পরে জানা গেছে ঐ টাকাতে তার বাবার পারলৌকিক কর্ম খুব ভালো ভাবে সম্পন্ন হয়, এই হলো আমাদের অগতীর গতি কাঙালের ঠাকুর গুরুদেব।

................................শ্রীগুরু জয়..........................

অন্ত্যর্যামী_শ্রীশ্রীদূর্গাপ্রসন্ন

..............#অন্ত্যর্যামী_শ্রীশ্রীদূর্গাপ্রসন্ন..............

🌿🍂🌿🍂🌿🍂🌿🍂🌿🍂🌿🍂🌿🍂


১৯৫৪ সাল (১৩৬১ সালে সময়টা বোধহয় পৌষ মাসের ) একটি ছোট ঘটনার উল্লেখ করা সম্ভবত অপ্রাসঙ্গিক হবে না। টালিগঞ্জে ভাড়া বাড়িতে তখন কেন্দ্রীয় আশ্রম স্থাপিত ছিল। একদিন বিকেল বেলা আশ্রমে গিয়ে সন্ধ্যারতির পর ফিরে আসছি। পথে (গলির মধ্যেই ) একজন রাজস্থানি ব্যক্তির সঙ্গে দেখা --- ভদ্র লোক আমাদের আশ্রমের খোঁজ জানতে চাইলেন। উনি বল্লেন, তিনি আদৌ বাংলা জানেন না -- অর্থাৎ বাংলা ভাষা বুঝতে বা বলতে কোনোটাই পারেন না। ইংরেজি তে ঐ ভদ্রলোক এর সঙ্গে আলাপ করলাম -- মনে হলো তিনি ইংরেজি কিছু কিছু বোঝেন, তবে বলতে পারেন আরো সামান্য। হিন্দিই তার জানা। শ্রীশ্রীগুরুদেবের কাছে কি এক দরকারে এসেছেন। তার সঙ্গেই আবার আশ্রমে ফিরে এলাম, শ্রীশ্রীগুরুদেব তখনও ঠাকুর ঘরের সামনে তার আসনে বসাই আছেন -- কাছে দু চার জন মাত্র লোক। রাজস্থানি ভদ্র লোকের( উপাধি দপ্তরী ) বিষয় শ্রীশ্রীগুরুদেব কে জানালাম, আর মনে মনে ভাবলাম -- এবার দোভাষীর কাজটি বোধহয় আমাকেই করতে হবে। শ্রীশ্রীগুরুদেব লোকটি কে সুস্পষ্ট বাংলায় জিজ্ঞাসা করলেন -- কি, বাবা, তোমার কি কষ্ট বলো -- মনে কোনো দ্বিধা রেখো না। এর উত্তরে ঐ ভদ্র লোক ভাঙা ভাঙা বাংলায় ( উচ্চারণে কিছুটা হিন্দির টান ) তার বক্তব্য পেশ করলেন। শ্রীশ্রীগুরুদেব যথোচিত প্রতিকারের জন্য প্রয়োজনীয় নির্দেশ ও কবচ ইত্যাদি দিলেন। দোভাষীর কাজ করা আমার আর হলো না,  ভাবলাম -- আচ্ছা লোকতো, আমাকে বল্লেন, বাংলা একেবারে জানেন না অথচ কথোপকথনে বাংলাতে তো কোনো অসুবিধাই হলো না। ভদ্র লোকের সঙ্গেই আশ্রম থেকে বেরিয়ে  এলাম -- পথে বললাম আপনি বাংলা তো ভালোই জানেন। 
     ভদ্র লোক নির্ধিদ্বায় উত্তর দিলেন -- তিনি বাংলাতে কোনো কথা বলেন নি। শ্রীশ্রীগুরুদেবও তার সব প্রশ্নের উত্তর তো হিন্দিতেই দিয়েছেন। তার কথার মধ্যে কোনো কপোটতা আছে বলে মনে হলো না। অথচ নিজের কানকেও তো অবিশ্বাস করতে পারি না। এর রহস্য সত্যিই দুরধিগম্য। 

লেখক 
Sri S R Dutta 
🙏🙏🙏

Tuesday, May 26, 2020

শ্রী গুরু জয় গুরুদেবের নিত্য লীলা

শ্রীগুরু জয়
গুরুদেবের নিত্য লীলা নিয়ে লিখতে গিয়েই হাত একটু কেপে উঠছিলো। তবু গুরু কথা শ্রবণে মঙ্গল হয় তাই একটি ঘটনার মাধ্যমে সকল গুরুভাই আর বোনদের জানাতে চাই আজিও সেই নিত্য লীলা।
ঘটনা টি কিছুদিন আগেই এক উৎসবে ঘটে ছিল।
উৎসব শুরুর শেষ পর্যায় সমাহত, দুপুরে গুরূপুজা অন্তে মহাপ্রসাদ বিতরন এর মাধ্যমে উৎসবের সমাপ্তি, দয়াল ঠাকুরের ভোগ রাগ চলছে, যেখানে গুরুপূজা হচ্ছিল সেই ঘরে দুইটি দরজা,আর একটি কাচের জানালা, দরজা দুটো রীতি অনুযায়ী বন্ধ আর জানলা টা উৎসবের জন্য প্রথম থেকেই বন্ধ ছিল।
সুন্দর মধুর কীর্তনের সাথে গুরু পূজা চলছিল,সমস্ত ভক্ত আর শিষ্য মন্ডলীর সমবেত কণ্ঠে ভোগ আরতির গানে উৎসবাঙ্গন যেন শ্রী বৃন্দাবনে পরিণত হয়েছিল।
মঞ্চে উপবিষ্ট কাঙালের ভগবান শ্রী শ্রী দুর্গা প্রসন্ন পরম হংস দেব । মধুর হাসি তার শ্রী মুখে উদ্ভাসিত। ভোগারতি শেষ হলো, ধ্বনি দিয়ে  ওই গুরু পূজার ঘর এর সন্মুখ ভাগের দরজা দর্শনের জন্য উন্মুক্ত করা হলো, কিন্তু একি দেখছে ভক্ত আর শিষ্য মন্ডলী, সবাই অবাক,কেউ কেউ অশ্রু সজল নেত্রে এক ভাবে বিভোর হয়ে চেয়ে দেখছে যে শ্রীগুরু দেবের জন্য নিমিত্ত ভোগের এক পাশ থেকে কেউ যেন উঠিয়ে নিয়েছে, মনে হলো বিভিন্ন প্রশ্ন কিন্তু কিছুতেই যুক্তি তে খুঁজে পাওয়া সম্ভব হচ্ছিল না যে অন্য কিছুতে তা নিয়ে গেছে, কারণ ঘরের চারিপাশ বন্ধ তো ছিল আর ভোগের ওই অংশ টুকু ছাড়া বাকি কোথাও কোনো ভাবে ভোগের সাজ বিকৃত হয়নি। হয়ত কাঙালের দয়াল প্রাণের গুরুদেব গ্রহণ করেছে তার কাঙালের নিবেদিত ভোগ অঞ্জলী, খবর ধীরে ধীরে চাউর হতে লাগল, বহু লোক এসে সেই ভোগের দর্শন নিয়ে ধন্য হতে লাগলো।
যাদের বিশ্বাস হবে না তারা মনে করবে এগুলো নিছক প্রাকৃতিক ঘটনা কিন্তু আমরা যারা গুরুদেবের লীলা সমন্ধে ওয়াকিবহাল তারা জানবে এর মাহাত্ম্য।
শেষ করার প্রাক্কালে তার বাণী বারবার আমার মনে দাগ কেটে গিয়েছে, সেই বাণী টি ছিল
" আমি সূক্ষ্ম দেহে তোমাদের ছাড়িয়া কোথাও যাইব না, আমি আছি আমি থাকবো, আমি তোমাদের আপনের আপন, এবার আমি কাহাকেও ভুলিতে আসি নাই"

শ্রীগুরু জয় -- শ্রীগুরু জয় --- শ্রীগুরু জয়
🙏

বৈষ্ণবদের গুন দর্শন

বৈষ্ণবদের একটা বড়ো গুন হলো,এরা অন্যের শুধু গুন দর্শন করে, কখনো দোষ দর্শন করে না, এরা অদোষ দোষী। শ্রীগুরু দেবের অসীম করুণার ফলে আজ আমরা শ্রী...